শিশুরা বরাবরই আমার কাছে এনজেলের মত। দেখলেই আদোর করতে ইচ্ছে করে। কোলে নিয়ে গল্প করতে ইচ্ছে করে। মিষ্টি এই বাবুটির নাম ‘মুন’। বয়স ৪ বছর। ওর মা একদিন আমার চেম্বারে নিয়ে আসে ওর কিছু সমস্যা নিয়ে
- হা করে ঘুমায়
- ঘুমের মধ্যে শ্বাস কষ্ট হয়
- নাক ডাকার শব্দ হয়
- ঠিক মত খেতে পারে না
- গলা ব্যথা করে
- মুখ দিয়ে লালা ঝরে
- সারা বছর ঠাণ্ডা লেগেই থাকে
- দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে
মেয়ের সমস্যার কথা বলতে বলতে মুনের আম্মু অঝরে কাঁদতে থাকে।
আমি তাকে স্বান্তনা দিয়ে মুন কে ভাল করে দেখলাম।
আসলে ওর কোন জটিল রোগই হয়নি, এটি বাচ্চাদের একটি কমন রোগ এডিনোটনসিলাইটিস (Adenotonsillitis)
বাচ্চাদের এডিনয়েড এবং টনসিল ফুলে গেলে মূলত এই সমস্যা গুলো হয়। সাধারণত ৩ -১৩ বছরের বাচ্চাদের মধ্যে এই সমস্যাগুলো বেশি দেখা যায় কারণ এই সময়ে বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।তাই বার বার গলায় জীবানুর সংক্রমণ হয়।
পরীক্ষা নীরিক্ষা করে মুনের আম্মুকে যখন অপারেশনের কথা জানালাম, ভয়ে তার চোখ মুখ একেবারে শুকিয়ে গেল…
- এতটুকু বাচ্চার অপারেশন করা যাবে?
- অজ্ঞান করলে জ্ঞান ফিরবে?
- রক্ত বের হবে না তো?
- টনসিল,এডিনয়েড ফেলে দিলে কোন সাইড ইফেক্ট হবে?
- অপারেশনের পর এটা কি আবার হতে পারে?
- অপারেশনের পর খেতে এবং কথা বলতে কোন সমস্যা হবে?
বিস্ময় নিয়ে জানতে চাইলো আমার কাছে….
আসলে এইভয় প্রতিটি অভিভাবকই পায়। এই প্রশ্নগুলো প্রতিটি অভিভাবকই আমাকে করে অপারেশনের পূর্বে।
আমি সব সময়ই চেষ্টা করি তাদের বিষয়গুলো বুঝিয়ে বলার। যথারীতি মুনের আম্মুকে বুঝিয়ে বলার পর অপারেশনের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হলো।
২,সপ্তাহ আগে সফল ভাবে মুনের এডিনোটনসিলেক্টোমি সার্জারি সফল ভাবে সম্পন্ন করি।
আজ মুন এসেছিল আমার চেম্বারে, দৌড়ে আমার কাছে আসলো। বড্ড আদোর করতে ইচ্ছে করলো, মুন আমার কোলে উঠলো। আমার সাথে গল্প করলো, মুন এখন স্পষ্ট ভাবে কথা বলে, ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করে, হা করে আর ঘুমায় না, ঘুমের মধ্যে আর শ্বাস কষ্ট হয়না, নাক ডাকে না।
মুনের আম্মুর মুখে হাসি, আজ নেই চোখে সেই বিষাদের ছাপ, মনে নেই কোন সংশয়। সব হারিয়ে গেছে মুনের মিষ্টি হাসিতে……
মুন এভাবেই আলো ছড়াবে চাঁদের মত
সেই শুভকামনা রইলো ওর জন্য…
