হারিয়ে যাওয়া সেই স্মৃতি
সাদাকালো যুগের ছবি হয়ে
পুরোনো বইয়ের পাতার মাঝে …
এত এত রঙিন ছবির ভীড়ে
এই ছবিটাকেই কেন জানি আমার ভীষণ ভাললাগছে ….
১৯৯৩ সাল; ৫ম শ্রেনীতে পড়ি, ফুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, সালথা, ফরিদপুর।
কোন এক সন্ধ্যায় বাবা তখনকার সময়ের ১ প্যাকেট সুপার বিস্কুট বাজার থেকে কিনে এনে আনন্দের সংবাদটি দেয় “তুমি প্রাইমারি বৃত্তি পেয়েছো” আমি তো খুশিতে আত্নহারা …
বাবার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল…তখন বুঝিনি কিছু …
এখন বুঝি …
এতো ছিল বাবার দারিদ্রতার জয়, সারা দিন রাত হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে আমাদের ছয় ভাই বোন কে পড়ালেখা শিখিয়েছেন…তিন বেলা ঠিকমত খেতে না পারলেও বই,কলম, খাতা ঠিকই বেশি বেশি করে কিনে দিতো বাবা …
সেদিন হাফ কেজি মিষ্টি কেনার টাকাও হয়তো ছিলনা বাবার কাছে …
হয়তো তার বৃত্তি পাওয়া ছেলেটির জন্য মায়া হচ্ছিল, মিষ্টি কিনতে না পারার কারনে
হয়তো সে কারনেই বাবার চোখে সেদিন জল গড়িয়ে পড়ছিল.
সেই জল ছিল আমার প্রতি বাবার ভালবাসার …..
আমার বড়দা তখন ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে পড়তো…. পড়ার পাশাপাশি টিউশনি করে বাবাকে সহযোগিতা করতো….
আমার বৃত্তি পাওয়ার খবর শুনে ফরিদপুর থেকে একটি নতুন জামা আর একটি প্যান্ট কিনে এনেছিলো….
বেশির ভাগ সময়ই পুরোনো জামা কাপড় পরেছি ….
বড়দার দেওয়া সেই নতুন জামা প্যান্ট পড়ে মুকসুদপুর যেয়ে স্টুডিও থেকে আমার জীবনের প্রথম এই ছবিটা তু্লেছিলাম …
এটাই আমার শিশুকালের একমাত্র ছবি …..
তাইতো ছবিটাকে বড় যত্ন করে রেখেদিয়েছিলাম আমার পুরোন বইয়ের পাতার ফাঁকে ….
আজ পুরোনো বইগুলো ঘাটতে গিয়ে ছবিটি দেখে হঠাৎ হারিয়ে গেলাম ফেলে আসা আমার সেই শিশুকালে ….
